ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

  • আপডেট সময়: ১১:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ১৪৯ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ২৯১ রানের টার্গেট দিয়ে শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং স্তম্ভ ভেঙ্গে দেন বাংলাদেশের পেসাররা। এরপর একাই দলকে টানেন সালমান আলি আগা। পাকিস্তানকে জয়ের দ্বারপ্রান্তেই নিয়ে যান তিনি। কিন্তু শেষদিকের রোমাঞ্চে ১১ রানে জিতে যায় বাংলাদেশ। তাতেই ২-১ ব্যবধানে সিরিজও জিতলেন মেহেদি হাসান মিরাজরা।

এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা সিরিজ জেতার নজিরও গড়ল বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১৫ সালে একে অপরের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান। সেবার পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ১৭ রানেই হারায় প্রথম তিন উইকেট। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে (৬) ফেরান তাসকিন। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)। আর নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে রিজওয়ানকে (৪) ফেরান তাসকিন।

চাপে পড়া দলের হাল ধরার চেষ্টা চালান গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ। তবে প্রতিরোধটা ভালোভাবে করতে পারেননি তারা। ৩৯ বলে ২৯ রানে ঘোরি ও ৪৫ বলে ৩৪ রানে সামাদ আউট হন।

একশর আগেই ৫ উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। বিপদের সময় দলের হাল ধরেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন সাদ মাসুদ। অভিষিক্ত এই ব্যাটার দারুণ শুরু পেয়েছিলেন। তবে ৩৮ রানে তাকে থামিয়েছেন মুস্তাফিজ। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করেন এই বাঁহাতি পেসার। তাতেই ৭৯ রানে থামে সালমান-মাসুদ।

ক্রিজে নেমে দেখে-শুনেই খেলছিলেন ফাহিম আশরাফ। সালমানের সঙ্গে আরেকটি জুটি গড়ার প্রয়াস চালান তিনি। কিন্তু সেই সুযোগ দেননি তাসকিন আহমেদ। বাঁহাতি এই ব্যাটারকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তিনি। আউট হওয়ার আগে ৯ রান করেন ফাহিম।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার তাসকিন আহমেদ। একাই চারটি উইকেট নেন তিনি।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। বিনা উইকেটে দলীয় একশ রানের ঘরে পৌঁছায় স্বাগতিকরা।

দলীয় ১০৫ রানে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান (৩৬)। তবে উইকেটের আরেক পাশে সাবলীলভাবে ব্যাট চালাতে থাকেন তানজিদ তামিম।

তামিমকে সঙ্গ দিতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তও (২৭) ফেরেন পাকিস্তানি পেসার হারিস রউফের ওভারে। এরপর লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে থাকেন তানজিদ।

অবশেষে ৩৩তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরেই নিজের শতকের দেখা পেলেন তানজিদ তামিম। সেঞ্চুরির জন্য তিনি খরচ করেছেন ৯৮ বল, ৭টি ছক্কা এবং ৬টি চারের মারে সাজানো ছিল তার এই দারুণ ইনিংস।

তবে সেঞ্চুরির পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেনি এই ওপেনার। ফেরেন ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন।

দলীয় ২৬২ রানে ফেরেন লিটন কুমার দাস। তিনি ৫১ বলে এক চার আর এক ছক্কায় ৪১ রান করে ফেরেন। তবে পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলে যান তাওহীদ হৃদয়। তার ৪৪ বলের ৪৮ রানের ইনিংসের সুবাদে ২৯০ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নিলেন মেয়ে

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ

আপডেট সময়: ১১:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ২৯১ রানের টার্গেট দিয়ে শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং স্তম্ভ ভেঙ্গে দেন বাংলাদেশের পেসাররা। এরপর একাই দলকে টানেন সালমান আলি আগা। পাকিস্তানকে জয়ের দ্বারপ্রান্তেই নিয়ে যান তিনি। কিন্তু শেষদিকের রোমাঞ্চে ১১ রানে জিতে যায় বাংলাদেশ। তাতেই ২-১ ব্যবধানে সিরিজও জিতলেন মেহেদি হাসান মিরাজরা।

এর মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা সিরিজ জেতার নজিরও গড়ল বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১৫ সালে একে অপরের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান। সেবার পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ১৭ রানেই হারায় প্রথম তিন উইকেট। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে (৬) ফেরান তাসকিন। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে (৬)। আর নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে রিজওয়ানকে (৪) ফেরান তাসকিন।

চাপে পড়া দলের হাল ধরার চেষ্টা চালান গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ। তবে প্রতিরোধটা ভালোভাবে করতে পারেননি তারা। ৩৯ বলে ২৯ রানে ঘোরি ও ৪৫ বলে ৩৪ রানে সামাদ আউট হন।

একশর আগেই ৫ উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। বিপদের সময় দলের হাল ধরেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন সাদ মাসুদ। অভিষিক্ত এই ব্যাটার দারুণ শুরু পেয়েছিলেন। তবে ৩৮ রানে তাকে থামিয়েছেন মুস্তাফিজ। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করেন এই বাঁহাতি পেসার। তাতেই ৭৯ রানে থামে সালমান-মাসুদ।

ক্রিজে নেমে দেখে-শুনেই খেলছিলেন ফাহিম আশরাফ। সালমানের সঙ্গে আরেকটি জুটি গড়ার প্রয়াস চালান তিনি। কিন্তু সেই সুযোগ দেননি তাসকিন আহমেদ। বাঁহাতি এই ব্যাটারকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তিনি। আউট হওয়ার আগে ৯ রান করেন ফাহিম।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার তাসকিন আহমেদ। একাই চারটি উইকেট নেন তিনি।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। বিনা উইকেটে দলীয় একশ রানের ঘরে পৌঁছায় স্বাগতিকরা।

দলীয় ১০৫ রানে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান (৩৬)। তবে উইকেটের আরেক পাশে সাবলীলভাবে ব্যাট চালাতে থাকেন তানজিদ তামিম।

তামিমকে সঙ্গ দিতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তও (২৭) ফেরেন পাকিস্তানি পেসার হারিস রউফের ওভারে। এরপর লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে থাকেন তানজিদ।

অবশেষে ৩৩তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরেই নিজের শতকের দেখা পেলেন তানজিদ তামিম। সেঞ্চুরির জন্য তিনি খরচ করেছেন ৯৮ বল, ৭টি ছক্কা এবং ৬টি চারের মারে সাজানো ছিল তার এই দারুণ ইনিংস।

তবে সেঞ্চুরির পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেনি এই ওপেনার। ফেরেন ১০৭ বলে ১০৭ রান করেন।

দলীয় ২৬২ রানে ফেরেন লিটন কুমার দাস। তিনি ৫১ বলে এক চার আর এক ছক্কায় ৪১ রান করে ফেরেন। তবে পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলে যান তাওহীদ হৃদয়। তার ৪৪ বলের ৪৮ রানের ইনিংসের সুবাদে ২৯০ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।