লোকসমাচার ডেস্ক : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর (১৩) মেয়ে সন্তান হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে জেলা শহরের একটি সরকারি হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দেয় সে।
আজ সোমবার সকালে হাসপাতালে ওই কিশোরীর পরিবার জানায়, মোহিন চন্দ্র সিংহ (২৩) নামের এক যুবক তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মোহিন ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। এরপরও কয়েকবার এমনটা করেন তিনি। এ কথা কাউকে বললে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেন। ভয়ে কিশোরী বাড়িতে কাউকে কিছু জানায়নি। শারীরিক পরিবর্তন দেখে মায়ের সন্দেহ হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা।
মেয়েটির মা বলেন, মেয়ের কাছে বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা মোহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি কিশোরীকে বিয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে বিষয়টি নানা অজুহাতে এড়িয়ে যান।
কিশোরীর গর্ভপাত করানোর জন্য চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসক জানান, এ অবস্থায় গর্ভপাত ঘটালে কিশোরীর মৃত্যুর আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। পরে কিশোরীর বাবা ৫ আগস্ট বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা করেন। মামলার পর মোহিন পালিয়ে যান।
হাসপাতালে ক্ষণে ক্ষণে কান্না করছিল নবজাতকটি। নবজাতকের কান্না থামাতে পারছিল না কিশোরী মা। এ সময় কিশোরীর মা এগিয়ে আসেন। কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, ‘হামার মেয়ের কী সর্বনাশ হইল।’ এরপর ‘সোনা কান্দে না, লক্ষ্মী কান্দে না’ বলে নবজাতককে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। বললেন, ‘মেয়েটার সব শেষ হয়ে গেলে। এই বাচ্চা নিয়ে আমরা এখন কী করব? ওকে (নবজাতক) গ্রহণও করতে পারছি না। আবার ফেলে দিতেও কষ্ট হচ্ছে।’
কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নিতে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে দুপুরে নবজাতককে নিয়ে কিশোরী মা নিজের বাবা-মাসহ বালিয়াডাঙ্গী থানায় হাজির হন। সে সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আমজাদ হোসেন তাদের বলেন, ‘তোমরা বাচ্চাটিকে নিয়ে ভালো করে রাখো। আমি এর মধ্যে অভিযোগপত্র দিয়ে দেব।’ পরে তাঁরা নবজাতককে নিয়ে বাড়ি চলে যান।
এ ঘটনা সম্পর্কে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় কিশোরীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে আছে। কিশোরীর বাবা বিচার চেয়ে আমার কাছে এলে আমি তাদের থানায় যাওয়ার পরামর্শ দিই। শুনেছি কিশোরী একটি মেয়ের মা হয়েছে।’




















