ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • আপডেট সময়: ০১:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ জন দেখেছে
Spread the love

জাফরান আকন্দ,ঢাকা অফিস:মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার): রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত “Trapped Behind the Scam: Ending Human Trafficking for Forced Criminality” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, মানবপাচার চক্র এখন ভুয়া অনলাইন নিয়োগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণ-তরুণী ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়ে অনেককে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত, বেসরকারি সংস্থা ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করার মতো আধুনিক অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (NRM) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং তথ্যভিত্তিক কেস ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বোন্ডেসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

‘সব ফাঁস’ করে দেওয়ার হুমকি পাটওয়ারীর, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময়: ০১:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Spread the love

জাফরান আকন্দ,ঢাকা অফিস:মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন স্ক্যাম প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার): রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত “Trapped Behind the Scam: Ending Human Trafficking for Forced Criminality” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, মানবপাচার চক্র এখন ভুয়া অনলাইন নিয়োগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণ-তরুণী ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়ে অনেককে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত, বেসরকারি সংস্থা ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করার মতো আধুনিক অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (NRM) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং তথ্যভিত্তিক কেস ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল পাচার প্রতিরোধ তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বোন্ডেসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।