ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনমন্ত্রীকে ‘কুলাঙ্গার সন্তান’ বললেন ডা. জাফরুল্লাহ!

  • আপডেট সময়: ০৫:৪২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১
  • ১৪৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে তার বাবার ‘কুলাঙ্গার সন্তান’ বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক সমাবেশের সভাপতি ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনার পিতা সিরাজুল হক সাহেব সত্যের জন্য যেকোনো সময় সত্য কথা বলতে ভয় পাননি। তাহলে আপনি কেনো সত্য কথা বলতে ভয় পান?’

বুধবার (৩ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

এদিন হুইল চেয়ারে বসে বক্তব্য দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বর্তমান আইনমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ‘আইনমন্ত্রী, আজকে আমার সকল কথা আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। যদি আমার কথায় আপনি ক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন তাহলে আমার নামে একটি মামলাও করতে পারেন। মামলা করার সময় ৫ হাজার টাকা কোর্ট ফি দিতে ভুলবেন না।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, “তাকিয়ে দেখেন, চারপাশ থেকে জনগণ চাপতে শুরু করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার লুকোচুরি বন্ধ করেন। আপনাকে আপনার পিতার অমর বাণীটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- ‘আর দাবিয়ে রাখাতে পারবা না’।”

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে ৬ মাসের জামিন দিয়ে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন, এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আজ কিশোরের যে রায়টি দিয়েছেন সেটি ‘অসম্পূর্ণ রায়’। যারা সংবিধান ভঙ্গ করেছেন, যারা সংবিধান লংঘন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন। এটি আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।”

তিনি বলেন, ‘আজকে কিশোর মুক্ত হয়েছে। আমি আনন্দিত। কিন্তু আমি চিন্তিতও বটে। লেখক ও কলামিস্ট মুশতাক আহমেদ মৃত্যুর আগে তার পরিবারকে বলেছিল, ‘আমার কথা চিন্তা করো না, কিশোরের কথা চিন্তা করো না’। কিন্তু এরইমধ্যে তাকে মরতে হলো।’

এসময় বিভিন্ন অজুহাতে বন্দি করে রাখা ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

লিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমাদের কারও হাতে ইট-পাথর-লাঠি নেই। আমরা নিরস্ত্র। আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। আজ আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। দায়িত্ব হলো, আপনারা দায়িত্ব নিয়ে, পাহারা দিয়ে আমাদেরকে পৌঁছে দেয়া। ওনার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয়া।’

পুলিশ সদস্যদের তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেকটি পুলিশ সদস্যকে এসপি পদমর্যাদা‌ পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ-সুবিধা করে দিবো। আপনাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুব্যবস্থা করে দেবো। আপনারা সরকারের পাশে নয়, আমাদের পাশে, জনগণের পাশে থাকুন।’

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের মাহামুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েক সাকী, অধ্যাপক রেহেনুমা আহমেদ, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, পরিবেশ আইনবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা ফিরোজ আহমেদ, কবি ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ, সাংবাদিক সেলিম খান, রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

নাগরিক সমাবেশ শেষে লেখক ও কলামিস্ট মুশতাক আহমেদের হত্যার প্রতিবাদ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

আইনমন্ত্রীকে ‘কুলাঙ্গার সন্তান’ বললেন ডা. জাফরুল্লাহ!

আপডেট সময়: ০৫:৪২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে তার বাবার ‘কুলাঙ্গার সন্তান’ বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক সমাবেশের সভাপতি ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনার পিতা সিরাজুল হক সাহেব সত্যের জন্য যেকোনো সময় সত্য কথা বলতে ভয় পাননি। তাহলে আপনি কেনো সত্য কথা বলতে ভয় পান?’

বুধবার (৩ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

এদিন হুইল চেয়ারে বসে বক্তব্য দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বর্তমান আইনমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ‘আইনমন্ত্রী, আজকে আমার সকল কথা আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। যদি আমার কথায় আপনি ক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন তাহলে আমার নামে একটি মামলাও করতে পারেন। মামলা করার সময় ৫ হাজার টাকা কোর্ট ফি দিতে ভুলবেন না।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, “তাকিয়ে দেখেন, চারপাশ থেকে জনগণ চাপতে শুরু করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার লুকোচুরি বন্ধ করেন। আপনাকে আপনার পিতার অমর বাণীটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- ‘আর দাবিয়ে রাখাতে পারবা না’।”

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে ৬ মাসের জামিন দিয়ে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন, এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আজ কিশোরের যে রায়টি দিয়েছেন সেটি ‘অসম্পূর্ণ রায়’। যারা সংবিধান ভঙ্গ করেছেন, যারা সংবিধান লংঘন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন। এটি আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।”

তিনি বলেন, ‘আজকে কিশোর মুক্ত হয়েছে। আমি আনন্দিত। কিন্তু আমি চিন্তিতও বটে। লেখক ও কলামিস্ট মুশতাক আহমেদ মৃত্যুর আগে তার পরিবারকে বলেছিল, ‘আমার কথা চিন্তা করো না, কিশোরের কথা চিন্তা করো না’। কিন্তু এরইমধ্যে তাকে মরতে হলো।’

এসময় বিভিন্ন অজুহাতে বন্দি করে রাখা ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

লিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমাদের কারও হাতে ইট-পাথর-লাঠি নেই। আমরা নিরস্ত্র। আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। আজ আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। দায়িত্ব হলো, আপনারা দায়িত্ব নিয়ে, পাহারা দিয়ে আমাদেরকে পৌঁছে দেয়া। ওনার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয়া।’

পুলিশ সদস্যদের তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেকটি পুলিশ সদস্যকে এসপি পদমর্যাদা‌ পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ-সুবিধা করে দিবো। আপনাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুব্যবস্থা করে দেবো। আপনারা সরকারের পাশে নয়, আমাদের পাশে, জনগণের পাশে থাকুন।’

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের মাহামুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েক সাকী, অধ্যাপক রেহেনুমা আহমেদ, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, পরিবেশ আইনবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা ফিরোজ আহমেদ, কবি ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ, সাংবাদিক সেলিম খান, রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

নাগরিক সমাবেশ শেষে লেখক ও কলামিস্ট মুশতাক আহমেদের হত্যার প্রতিবাদ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।