লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর শহরের বকুলতলা মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের সাময়িক বরখাস্তের কথা জানিয়েছে একটি সংবাদমাধ্যম। অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে তাদের ক্লোজড বা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোররাতে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে কয়েকজন যুবক স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে উঠে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। আগুন জ্বলে ওঠার পর তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়।
ঘটনার পর স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে আগুনে পোড়ার কালো দাগ দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে দুজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করতেন। ঘটনার রাতেও তারা সেখানে দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তাদের দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম জানান, স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অগ্নিসংযোগে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের বরাত দিয়ে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধারণকারী এই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা শহরের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।
সূত্র: প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন ও যশোর জেলা পুলিশের বক্তব্য।


















