ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার ‘চুরি’ নিয়ে তোলপাড়!

  • আপডেট সময়: ০৮:১৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সচিবালয়ের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তাসম্পন্ন ‘লাল টেলিফোন’-এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনের মধ্যে স্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ কপার ক্যাবলের কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়েছে বা চুরি হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের টেলিফোন সংযোগ অচল হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার ছুটি শেষে গত সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়মিত তদারকির সময় রেড টেলিফোনে কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানানো হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একটি দল কাজ শুরু করে এবং প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৩টার দিকে সংযোগ পুনরুদ্ধার করে।

বিটিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, সচিবালয়ের পুরোনো ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মূল্যবান কপার ক্যাবল কাটা এবং কিছু অংশ উধাও পাওয়া গেছে। এর ফলে শুধু সাধারণ টেলিফোন নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি বিটিসিএল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করছে।

এ ঘটনায় সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও সচিবালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কড়াকড়ি নেই। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের মতো স্পর্শকাতর যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ার ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

বৃষ্টি নিয়ে সুখবর দিলো আবহাওয়া অধিদফতর

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার ‘চুরি’ নিয়ে তোলপাড়!

আপডেট সময়: ০৮:১৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সচিবালয়ের ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তাসম্পন্ন ‘লাল টেলিফোন’-এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনের মধ্যে স্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ কপার ক্যাবলের কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়েছে বা চুরি হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের টেলিফোন সংযোগ অচল হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার ছুটি শেষে গত সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়মিত তদারকির সময় রেড টেলিফোনে কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানানো হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একটি দল কাজ শুরু করে এবং প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৩টার দিকে সংযোগ পুনরুদ্ধার করে।

বিটিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, সচিবালয়ের পুরোনো ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মূল্যবান কপার ক্যাবল কাটা এবং কিছু অংশ উধাও পাওয়া গেছে। এর ফলে শুধু সাধারণ টেলিফোন নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি বিটিসিএল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করছে।

এ ঘটনায় সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও সচিবালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কড়াকড়ি নেই। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের মতো স্পর্শকাতর যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ার ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।