লোকসমাচার ডেস্ক:জুনের শুরুতেই তীব্র গরমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। ঢাকাসহ অন্তত ৪০টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় তীব্র রোদের পাশাপাশি তপ্ত বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।
বুধবার (৩ জুন) এমন পরিস্থিতিতে স্বস্তির খবর দিয়ে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাত বাড়লে কমতে পারে এই গরমের তীব্রতা।
আজ বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘহীন এবং দুপুরের দিকে রোদের প্রখরতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে তা মানুষের শরীরে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে।
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বেসরকারি চাকরিজীবী আহসান হাবিব ও রিকশাচালক রমিজ উদ্দিন জানান, সহ্য করা যায় না এমন গরমে রাস্তায় রিকশা চালানো বা চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে এবং তপ্ত বাতাসের কারণে পিপাসায় বারবার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন যে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়ার বিশেষ অবস্থা ‘এল নিনো’-র প্রভাবও এ অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে সুখবর হলো আগামীকাল থেকে আকাশে মেঘের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি থাকলেও আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা একটু একটু করে বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি শুরু হলে তখন উপকূলীয় জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করবে এবং গরমের এই চড়া ভাব কেটে গিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।






















