নীলফামারী প্রতিনিধি:নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মোঃ মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, জন্ম নিবন্ধন সংশোধনসহ বিভিন্ন সরকারি কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত সেবা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা এখন হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি সহায়তা পাওয়ার আশায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষ তার কাছে টাকা দিয়েছেন। কেউ ধার করে, কেউ সুদে টাকা এনে অর্থ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও অনেকে ভাতার কার্ড বা কাঙ্ক্ষিত সরকারি সুবিধা পাননি।
ভুক্তভোগী জাকারিয়া ইসলাম অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ সাড়ে ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্ড হয়নি। রাহাত ইসলাম বলেন, তার মায়ের বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো সুবিধা পাওয়া যায়নি। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন শামসুন্নাহার, লতিফা বেগম, লাভলী বেগমসহ আরও কয়েকজন। এলাকাবাসীর দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে এভাবে প্রায় ৪ লাখ টাকারও বেশি আদায় করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে মিনহাজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এআই দিয়ে ছবিতে তাকে পুলিশের ইউনিফর্ম সদৃশ পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়, যা নিয়েও আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। তবে প্রভাবশালী মহলের কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি। শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) বিকেলে কয়েকজন ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইতে মিনহাজের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মোঃ মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















