ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্লুইচ গেটের অভাবে ১২শ’ পরিবারের জনভোগান্তি চরমে

  • আপডেট সময়: ০৮:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২০
  • ১৮৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের বড়পরী গ্রামে একটি স্লুইচ গেটের অভাবে ১২শ’ পরিবারের জনভোগান্তি এখন চরমে। প্রায় ৫০ বছর পূর্বে নির্মিত স্লুইচ ৩৫/১ পোল্ডারের অধিনে যাহার এফ,এস ২০ এর গেটটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় দু’পাড়ের ১২ শ’ পরিবার বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাসহ হাজার হাজার ফসলী জমি ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে। এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের দাবি অনতিবিলম্বে স্লুইচ গেটটি প্রশ্বস্ত আকারে পুর্ন নির্মানের।

এ বিষয়ে সিআইপি পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরে এলাকাবাসির গন স্বাক্ষরে একটি লিখিত আবেদন দায়ের করেছেন। সরেজমিনে সোমবার ১২টায় স্থানীয় ভূক্তভোগীরা ওই এলাকার স্লুইচ গেটটি পুর্ন নির্মানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এতে অংশ নেয়।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আওয়ামী লীগ নেতা ইসাহাক আলী হাওলাদার, মো. আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াদুদ ফরাজী, শিক্ষক কামাল হাওলাদার, তাঁতীলীগ সভাপতি মো. রহমত ঘরামি, ব্যবসায়ী ফজলুল হাওলাদার, কৃষক নিজাম উদ্দিন, সালেহা বেগম ও সুফিয়া বেগম সহ শত শত নারী পুরুষ বলেন, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলার দু’ উপজেলার সিমান্তবর্তী ফকিরবাড়ি বড়পরি খালের ওপর স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই ইচ গেটটি পানি চলাচলের জন্য পথের বাজার, বুড়ির বাজার, বানিয়াখালী, কুমারখালী হয়ে শরণখোলার ধানসাগর এ খাল গুলোর একমাত্র পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম স্লুইচ গেটটি। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যাক্ত জরাজীর্ন অবস্থায় রয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে পানিবন্ধী হয়ে পড়তে হয় হাজার হাজার পরিবারকে। ১০ হাজার একর ফসলী জমি পানির নিচে পড়ে থাকে। দীর্ঘ সময়ের পর পানি নিষ্কাশনের পরে নতুন করে আমন মৌসুমে বীজ বপন করতে হয় তাদের। এ দুর্ভোগের হাত থেকে পরিত্রান পেতে প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

এ সর্ম্পকে খাউলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, বড়পরি এলাকার স্লুইচ গেটটি দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও অকেজো অবস্থায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পাট ভেঙ্গে পড়েছে। ইতোপূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। অদ্যবধি পর্যন্ত কোন প্রতিকার হয়নি।স্লুইচ গেটটি পূর্ন নির্মান হলে হাজারও পরিবার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ৩৫/১ পোল্ডারের এফ.এস ২০ বড়পরী এলাকায় প্রকল্প শেষের পথে স্লুইচ গেটটি পূর্ন নির্মানের আপাদত কোন পরিকল্পনা নেই। তবে পূর্বের প্রকল্পের বরাদ্ধ অনুযায়ী সংস্কার করা হচ্ছে। এলাকাবাসির আবেদনের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নিলেন মেয়ে

স্লুইচ গেটের অভাবে ১২শ’ পরিবারের জনভোগান্তি চরমে

আপডেট সময়: ০৮:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২০
Spread the love

লোকসমাচার,বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের বড়পরী গ্রামে একটি স্লুইচ গেটের অভাবে ১২শ’ পরিবারের জনভোগান্তি এখন চরমে। প্রায় ৫০ বছর পূর্বে নির্মিত স্লুইচ ৩৫/১ পোল্ডারের অধিনে যাহার এফ,এস ২০ এর গেটটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় দু’পাড়ের ১২ শ’ পরিবার বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাসহ হাজার হাজার ফসলী জমি ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে। এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের দাবি অনতিবিলম্বে স্লুইচ গেটটি প্রশ্বস্ত আকারে পুর্ন নির্মানের।

এ বিষয়ে সিআইপি পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরে এলাকাবাসির গন স্বাক্ষরে একটি লিখিত আবেদন দায়ের করেছেন। সরেজমিনে সোমবার ১২টায় স্থানীয় ভূক্তভোগীরা ওই এলাকার স্লুইচ গেটটি পুর্ন নির্মানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এতে অংশ নেয়।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আওয়ামী লীগ নেতা ইসাহাক আলী হাওলাদার, মো. আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াদুদ ফরাজী, শিক্ষক কামাল হাওলাদার, তাঁতীলীগ সভাপতি মো. রহমত ঘরামি, ব্যবসায়ী ফজলুল হাওলাদার, কৃষক নিজাম উদ্দিন, সালেহা বেগম ও সুফিয়া বেগম সহ শত শত নারী পুরুষ বলেন, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলার দু’ উপজেলার সিমান্তবর্তী ফকিরবাড়ি বড়পরি খালের ওপর স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই ইচ গেটটি পানি চলাচলের জন্য পথের বাজার, বুড়ির বাজার, বানিয়াখালী, কুমারখালী হয়ে শরণখোলার ধানসাগর এ খাল গুলোর একমাত্র পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম স্লুইচ গেটটি। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যাক্ত জরাজীর্ন অবস্থায় রয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে পানিবন্ধী হয়ে পড়তে হয় হাজার হাজার পরিবারকে। ১০ হাজার একর ফসলী জমি পানির নিচে পড়ে থাকে। দীর্ঘ সময়ের পর পানি নিষ্কাশনের পরে নতুন করে আমন মৌসুমে বীজ বপন করতে হয় তাদের। এ দুর্ভোগের হাত থেকে পরিত্রান পেতে প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

এ সর্ম্পকে খাউলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, বড়পরি এলাকার স্লুইচ গেটটি দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও অকেজো অবস্থায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পাট ভেঙ্গে পড়েছে। ইতোপূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। অদ্যবধি পর্যন্ত কোন প্রতিকার হয়নি।স্লুইচ গেটটি পূর্ন নির্মান হলে হাজারও পরিবার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ৩৫/১ পোল্ডারের এফ.এস ২০ বড়পরী এলাকায় প্রকল্প শেষের পথে স্লুইচ গেটটি পূর্ন নির্মানের আপাদত কোন পরিকল্পনা নেই। তবে পূর্বের প্রকল্পের বরাদ্ধ অনুযায়ী সংস্কার করা হচ্ছে। এলাকাবাসির আবেদনের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।