ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • আপডেট সময়: ১০:৪২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ২৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি চালান আটকের উদ্দেশ্যে বসানো চেকপোস্টে ভুল সন্দেহের শিকার হন এই ক্রিকেটার। পরিচয় দেওয়ার পরও ওসির নির্দেশে তাকে মারধর করে থানায় নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

যা চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার ওসি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানতেন। কিন্তু ভুল করে ফেলেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম। তিনি নাঈম হাসানকে সন্দেহভাজন মনে করে হেনস্থা ও মারধর করেন। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে আসে এই তথ্য। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, সিএনজি অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে তথ্যটির সত্যতা এবং অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, ঘটনায় কিছু ভুলত্রুটি রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছি।

সূত্র জানায়, শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকায় অবস্থানরত খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনার চোরাচালান আসার তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিকুল ইসলাম লালখান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু ওই অটোরিকশায় ছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে চিনতে পারেননি। নাঈম পরিচয় দেওয়ার পরও দেরি হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল ফোন করলে পুলিশ নড়েচড়ে বসে।

এই ভুলের শাস্তি হিসেবে এসআই শফিকুলসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয় এবং পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, এ ঘটনা সিরিয়াসলি আমলে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাঈমের বড় ভাই সাব্বির হাসান অভিযোগে জানান, শুক্রবার রাতে নাঈমকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি গলা টিপে ধরে পুলিশ। পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। সোর্স সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন এবং নিজেকে ডিবি পরিচয় দেন। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয়রা তাকে থানায় নিয়ে যায়।

সাব্বির আরও জানান, খবর পেয়ে গভীর রাতে তাদের বাবা থানায় গেলে তাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ভেতরে ঢোকার পর দেখা যায়, সোর্স সোহেল ওসির পাশে বসে এসির বাতাস খাচ্ছেন।

এই ঘটনায় নাঈমের বড় ভাই সাব্বির হাসান খুলশী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে সোহেলকে তিন নম্বর আসামি দেখানো হয়। অপর দুজন হলেন এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল। দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময়: ১০:৪২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি চালান আটকের উদ্দেশ্যে বসানো চেকপোস্টে ভুল সন্দেহের শিকার হন এই ক্রিকেটার। পরিচয় দেওয়ার পরও ওসির নির্দেশে তাকে মারধর করে থানায় নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

যা চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার ওসি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানতেন। কিন্তু ভুল করে ফেলেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম। তিনি নাঈম হাসানকে সন্দেহভাজন মনে করে হেনস্থা ও মারধর করেন। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়ে উঠে আসে এই তথ্য। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, সিএনজি অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে তথ্যটির সত্যতা এবং অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, ঘটনায় কিছু ভুলত্রুটি রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছি।

সূত্র জানায়, শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকায় অবস্থানরত খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনার চোরাচালান আসার তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিকুল ইসলাম লালখান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু ওই অটোরিকশায় ছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে চিনতে পারেননি। নাঈম পরিচয় দেওয়ার পরও দেরি হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল ফোন করলে পুলিশ নড়েচড়ে বসে।

এই ভুলের শাস্তি হিসেবে এসআই শফিকুলসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয় এবং পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, এ ঘটনা সিরিয়াসলি আমলে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাঈমের বড় ভাই সাব্বির হাসান অভিযোগে জানান, শুক্রবার রাতে নাঈমকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি গলা টিপে ধরে পুলিশ। পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। সোর্স সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন এবং নিজেকে ডিবি পরিচয় দেন। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয়রা তাকে থানায় নিয়ে যায়।

সাব্বির আরও জানান, খবর পেয়ে গভীর রাতে তাদের বাবা থানায় গেলে তাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ভেতরে ঢোকার পর দেখা যায়, সোর্স সোহেল ওসির পাশে বসে এসির বাতাস খাচ্ছেন।

এই ঘটনায় নাঈমের বড় ভাই সাব্বির হাসান খুলশী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে সোহেলকে তিন নম্বর আসামি দেখানো হয়। অপর দুজন হলেন এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল। দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।