ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও জেড়েছে তাহরির স্কয়ার, ‘সিসির পতনের’ পদধ্বনি

  • আপডেট সময়: ০২:০৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ১৪৯ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক: শান্ত মিশর আবারও জেগেছে। স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির পতনের দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছে লাখো মিশরীয়। সিসির পতনের শ্লোগান উত্তাল সেই তাহরির স্কয়ার।

আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির পদত্যাগ দাবিতে মিশর বিক্ষোভে উত্তাল। রাজধানী কায়রোয় হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা তাহরির স্কয়ারে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন। তাতে তারা বলছেন- ‘জেগে উঠুন। কোনো ভয় করবেন না। সিসিকে যেতেই হবে’। আবার কেউ কেউ স্লোগান দিচ্ছেন ‘জনগণ সরকারের পতন চায়’।

কায়রো ছাড়াও হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা নেমেছেন দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়া ও সুয়েজের রাজপথেও।

আল জাজিরা বলছে, বেসামরিক পোশাকে থাকা নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কোয়ারমুখী সব সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

২০১১ সালে এই তাহরির স্কয়ার স্কোয়ারে জনতার ঢেউ এসেছিল তৎকারীন স্বৈরাশাসক হোসনি মুবারকের পতনের দাবিতে। স্বৈরশাসক একনায়কদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আরব মুল্লুকে আছড়ে পড়ে ‘আরব বসন্তের’ ঢেউ। ওই বিক্ষোভেই মোবারকের দীর্ঘ ৩০ বছরের একনায়কতন্ত্র উপড়ে ফেলে জনগণ। এরপর ২০১২ সালে মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মিসরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের মুরসি। চার বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও মাত্র এক বছরের মাথায় সেনাঅভ্যুত্থানের মুখে ২০১৩ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন মুরসি। ২০১৩ সালে বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিসরীয় সেনাবাহিনী। পরে প্রেসিডেন্টের মসনদে বসেন মুরসির হাতে সেনাপ্রধান হওয়া আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। পরে মিসরের এই প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। দলটির নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও নির্যাতন চালানো হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। শুধু কয়েক শতাধিত নেতাকর্মীকে ফাঁসিতেই ঝোলানো হয়। এখন হাজার হাজার নেতাকর্মী সিসির কারাগারে বন্দি।

গত ১৭ জুন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি একটি আদালতে বক্তব্য রাখার সময় অসুস্থ হয়ে মারা যান। আদালতে মুরসির মৃত্যর পর অনেক্ষণ মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখেছে সিসি প্রশাসন। সঠিক সময়ে মুরসির মৃত্যুর খবরও দেয়া হয়নি। যদিও মুরসির পরিবার ও বিভিন্ন সংগঠন মুরসিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

পাইকগাছায় এসিল্যান্ড পদ শূন্য, ভোগান্তিতে মানুষ

আবারও জেড়েছে তাহরির স্কয়ার, ‘সিসির পতনের’ পদধ্বনি

আপডেট সময়: ০২:০৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক: শান্ত মিশর আবারও জেগেছে। স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির পতনের দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছে লাখো মিশরীয়। সিসির পতনের শ্লোগান উত্তাল সেই তাহরির স্কয়ার।

আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির পদত্যাগ দাবিতে মিশর বিক্ষোভে উত্তাল। রাজধানী কায়রোয় হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা তাহরির স্কয়ারে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন। তাতে তারা বলছেন- ‘জেগে উঠুন। কোনো ভয় করবেন না। সিসিকে যেতেই হবে’। আবার কেউ কেউ স্লোগান দিচ্ছেন ‘জনগণ সরকারের পতন চায়’।

কায়রো ছাড়াও হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা নেমেছেন দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়া ও সুয়েজের রাজপথেও।

আল জাজিরা বলছে, বেসামরিক পোশাকে থাকা নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কোয়ারমুখী সব সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

২০১১ সালে এই তাহরির স্কয়ার স্কোয়ারে জনতার ঢেউ এসেছিল তৎকারীন স্বৈরাশাসক হোসনি মুবারকের পতনের দাবিতে। স্বৈরশাসক একনায়কদের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আরব মুল্লুকে আছড়ে পড়ে ‘আরব বসন্তের’ ঢেউ। ওই বিক্ষোভেই মোবারকের দীর্ঘ ৩০ বছরের একনায়কতন্ত্র উপড়ে ফেলে জনগণ। এরপর ২০১২ সালে মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মিসরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন মুসলিম ব্রাদারহুডের মুরসি। চার বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও মাত্র এক বছরের মাথায় সেনাঅভ্যুত্থানের মুখে ২০১৩ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন মুরসি। ২০১৩ সালে বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিসরীয় সেনাবাহিনী। পরে প্রেসিডেন্টের মসনদে বসেন মুরসির হাতে সেনাপ্রধান হওয়া আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। পরে মিসরের এই প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। দলটির নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও নির্যাতন চালানো হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। শুধু কয়েক শতাধিত নেতাকর্মীকে ফাঁসিতেই ঝোলানো হয়। এখন হাজার হাজার নেতাকর্মী সিসির কারাগারে বন্দি।

গত ১৭ জুন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি একটি আদালতে বক্তব্য রাখার সময় অসুস্থ হয়ে মারা যান। আদালতে মুরসির মৃত্যর পর অনেক্ষণ মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখেছে সিসি প্রশাসন। সঠিক সময়ে মুরসির মৃত্যুর খবরও দেয়া হয়নি। যদিও মুরসির পরিবার ও বিভিন্ন সংগঠন মুরসিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে আসছে।