ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে বিশ্বজুড়ে স্বস্তি, প্রশংসায় ভাসছে পাকিস্তান

  • আপডেট সময়: ০৫:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই চুক্তিকে একটি ‘বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে দেখছেন তারা। একই সঙ্গে, এই জটিল ও সংবেদনশীল আলোচনা সফল করতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তিগুলো।

গত রোববার (১৪ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি (Peace Deal) সম্পন্ন হয়েছে। এর কিছু সময় আগেই পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির খবর প্রকাশ করেন। চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে একে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানকে অভিনন্দন জানান। গুতেরেস সফল মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তান, কাতার, মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের গঠনমূলক ভূমিকার গভীর প্রশংসা করেন।

তুরস্ক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের ‘ব্যতিক্রমী মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার’ বিশেষ প্রশংসা করে তিনি মার্কিন ও ইরানি নেতৃত্বের সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানান। পাশাপাশি, কাতার ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ চুক্তির শর্তগুলো দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক মিশনের সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালী দ্রুত উন্মুক্ত করা জরুরি।

জার্মানি ও ইতালি
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির সমন্বয়ে গঠিত ‘ই৪’ (E4) জোট এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ বজায় রাখে, তবে তারা তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ বলেন, ‘এই কূটনৈতিক সাফল্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝিমিয়ে পড়া বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পথ প্রশস্ত করবে।’

কাতার
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাকিস্তানসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টাই এই সমঝোতা স্মারক অর্জনে মাঠপর্যায়ের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছিল।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে এবং ইরানের পরমাণু সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান আসবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, কূটনীতি ও আলোচনাই যে দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানের একমাত্র পথ, এই চুক্তি তা প্রমাণ করেছে।

সূত্র: জিও নিউজ

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

নড়াইলে ছাত্র অধিকার পরিষদের আংশিক কমিটি অনুমোদন, আনিচুজ্জামান সোহাগ সভাপতি ও মাজেদুল সাধারণ সম্পাদক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে বিশ্বজুড়ে স্বস্তি, প্রশংসায় ভাসছে পাকিস্তান

আপডেট সময়: ০৫:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই চুক্তিকে একটি ‘বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে দেখছেন তারা। একই সঙ্গে, এই জটিল ও সংবেদনশীল আলোচনা সফল করতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তিগুলো।

গত রোববার (১৪ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি (Peace Deal) সম্পন্ন হয়েছে। এর কিছু সময় আগেই পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির খবর প্রকাশ করেন। চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে একে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানকে অভিনন্দন জানান। গুতেরেস সফল মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তান, কাতার, মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের গঠনমূলক ভূমিকার গভীর প্রশংসা করেন।

তুরস্ক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের ‘ব্যতিক্রমী মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার’ বিশেষ প্রশংসা করে তিনি মার্কিন ও ইরানি নেতৃত্বের সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানান। পাশাপাশি, কাতার ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ চুক্তির শর্তগুলো দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক মিশনের সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালী দ্রুত উন্মুক্ত করা জরুরি।

জার্মানি ও ইতালি
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির সমন্বয়ে গঠিত ‘ই৪’ (E4) জোট এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ বজায় রাখে, তবে তারা তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ বলেন, ‘এই কূটনৈতিক সাফল্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝিমিয়ে পড়া বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার পথ প্রশস্ত করবে।’

কাতার
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাকিস্তানসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টাই এই সমঝোতা স্মারক অর্জনে মাঠপর্যায়ের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছিল।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে এবং ইরানের পরমাণু সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান আসবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, কূটনীতি ও আলোচনাই যে দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানের একমাত্র পথ, এই চুক্তি তা প্রমাণ করেছে।

সূত্র: জিও নিউজ