ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাফের ফাইনালে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত

  • আপডেট সময়: ০১:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ২৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:আরও একবার দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের ফাইনালে বাংলাদেশ। এই আসরের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ। সন্ধ্যা ৭টায় ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল।

ফাইনাল ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কেবলই আরেকটি শিরোপা জয়ের সুযোগ নয়, বরং দিচ্ছে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। টানা তৃতীয়বারের মতো সাফের মুকুট জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন অধিনায়ক মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও তাদের সতীর্থরা।

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে এক সময় একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল ভারতের। ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত টানা পাঁচটি সাফ শিরোপা জিতেছিল চলমান আসরের স্বাগতিকরা। তবে গত দুই আসরে দৃশ্যপট বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০২২ ও ২০২৪ টানা দুটি সাফের শিরোপা জিতে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

তবে এবারের ফাইনালটা সহজ হতে যাচ্ছে না মোটেও। বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ভারত। গ্রুপ পর্বের ম্যাচের ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের দ্রুতগতির আক্রমণ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশকে ব্যাপক ভুগিয়েছিল। ফলে ফাইনালে প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি শিরোপা ধরে রাখার লড়াইটাও কঠিন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য।

এরপরও দলগত সমন্বয়, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং ঋতুপর্ণা চাকমার সৃজনশীলতা বাংলাদেশের শক্তির জায়গা। মারিয়া মান্দার নেতৃত্বে মাঝমাঠও আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিণত। সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পথে দলটি মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত আত্মবিশ্বাসী তাদের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে।

পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফল বিবেচনায় ভারতকে সামান্য এগিয়ে রাখতেই হবে। কিন্তু গত চার বছরে বাংলাদেশের মেয়েরা বারবার দেখিয়েছে, বড় মঞ্চে তারা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারে। তাই ফাইনালটি কেবল দুই দলের লড়াই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে আধিপত্যের নতুন অধ্যায় রচনারও মঞ্চ। আর সেই মঞ্চেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মারিয়া-ঋতুপর্ণারা।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

সাফের ফাইনালে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত

আপডেট সময়: ০১:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:আরও একবার দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের ফাইনালে বাংলাদেশ। এই আসরের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ। সন্ধ্যা ৭টায় ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল।

ফাইনাল ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কেবলই আরেকটি শিরোপা জয়ের সুযোগ নয়, বরং দিচ্ছে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। টানা তৃতীয়বারের মতো সাফের মুকুট জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন অধিনায়ক মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও তাদের সতীর্থরা।

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে এক সময় একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল ভারতের। ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত টানা পাঁচটি সাফ শিরোপা জিতেছিল চলমান আসরের স্বাগতিকরা। তবে গত দুই আসরে দৃশ্যপট বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০২২ ও ২০২৪ টানা দুটি সাফের শিরোপা জিতে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

তবে এবারের ফাইনালটা সহজ হতে যাচ্ছে না মোটেও। বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ভারত। গ্রুপ পর্বের ম্যাচের ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের দ্রুতগতির আক্রমণ এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশকে ব্যাপক ভুগিয়েছিল। ফলে ফাইনালে প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি শিরোপা ধরে রাখার লড়াইটাও কঠিন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য।

এরপরও দলগত সমন্বয়, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং ঋতুপর্ণা চাকমার সৃজনশীলতা বাংলাদেশের শক্তির জায়গা। মারিয়া মান্দার নেতৃত্বে মাঝমাঠও আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিণত। সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পথে দলটি মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত আত্মবিশ্বাসী তাদের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে।

পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফল বিবেচনায় ভারতকে সামান্য এগিয়ে রাখতেই হবে। কিন্তু গত চার বছরে বাংলাদেশের মেয়েরা বারবার দেখিয়েছে, বড় মঞ্চে তারা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারে। তাই ফাইনালটি কেবল দুই দলের লড়াই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে আধিপত্যের নতুন অধ্যায় রচনারও মঞ্চ। আর সেই মঞ্চেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মারিয়া-ঋতুপর্ণারা।