ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন দলের নেতৃত্বে নাহিদ-আখতারসহ আলোচনায় যারা

  • আপডেট সময়: ০৭:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ১১৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এ অবস্থার মধ্যেই রাষ্ট্র পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত সফল করার লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এরপর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই ঘোষণার পরপরই নতুন দল ঘিরে দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কিভাবে দল গঠন হবে? কারা এই দলের নেতৃত্বে থাকবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনা শুরু হয়।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সামনে রেখেই নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। নেতাদের নাম চূড়ান্ত হয়নি।

তবে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে আলোচনায় আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক কমিটির আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের হাসনাত আবদুল্লাহ, আরিফ সোহেল, নাগরিক কমিটির সামান্তা শারমিনসহ বেশ কয়েকজন।

শীর্ষ নেতাদের অনেকেই আহ্বায়ক হিসাবে নাহিদ ইসলামের নাম বলছেন। নাম চূড়ান্ত হলে তিনি পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। আখতার হোসেনকে সদস্য সচিব করা হতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এ দল ঘোষণা হবে। এর আগে দলের নাম চূড়ান্ত করা হবে।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন যুগান্তরকে বলেন, তরুণদের মধ্যে যারা সিনিয়র, আন্দোলনের সময় সামনে থেকে নেতৃত্বে দিয়েছেন, যারা রাজনীতি সম্পর্কে ভালো বোঝেন তাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদপদবিতে রাখা হবে।

তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বেই রাজনৈতিক দল হবে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অনেক বছর পর একটি বড় রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ সামনে এসেছে। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নেতৃত্বে আমরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। সেভাবেই আমরা কাজ করছি।

জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা বলছেন, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সব কার্যক্রম প্রায় শেষ। দেশের চলমান রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কাঠামো ও ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে আদর্শের ওপর ভিত্তি করে নতুন রাজনৈতিক দল সামনে আনতে চান তারা। বিশেষ করে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বর্জন ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

তারা বলেন, নতুন দলের নেতৃত্ব নির্বাচন ও দলের অভ্যন্তরে বহুমুখী গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে চান তারা। কেউ চাইলে দীর্ঘ সময় দলের শীর্ষ পদ দখলে রাখতে পারবেন না। এ ছাড়াও দেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সময় উপযোগী রাজনৈতিক দল গড়তে প্রস্তুত তরুণ ছাত্র নেতারা। ফলে শেষ মুহূর্তেও নেওয়া হচ্ছে দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত।

‘এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ ছাত্রদের নেতৃত্বে নতুন দল গঠন করলেও জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিলুপ্ত হবে না। জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষার জন্য স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম হিসাবে সংগঠন দুটি কাজ করবে। ’

নেতারা বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেওয়া হবে। এতে প্রথম পর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এই আহ্বায়ক কমিটিতে যুক্ত হবেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রনেতা। আহ্বায়ক কমিটির সম্ভাব্য প্রধান হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নাম সর্বাধিক আলোচিত।

নেতারা আরও জানান, নতুন রাজনৈতিক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে আখতার হোসেনকে। তিনি বর্তমান জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সদস্য সচিব আরিফ হোসেল, নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিনসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে। আখতার হোসেন না হলে এদের ভেতর থেকে যে কাউকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মূলত নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বে দেওয়া এসব ছাত্র নেতার ওপরই আস্থা রাখতে চান তরুণরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা যুগান্তরকে বলেন, দল গঠনের কাজ চলমান। কবে এই দল ঘোষণা হবে এবং কারা দায়িত্বে থাকবেন- তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। সেজন্য ঘোষণা পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

এইচএসসি খাতা চ্যালেঞ্জের সময় বাড়ল, আবেদন করা যাবে রোববার দুপুর পর্যন্ত

নতুন দলের নেতৃত্বে নাহিদ-আখতারসহ আলোচনায় যারা

আপডেট সময়: ০৭:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এ অবস্থার মধ্যেই রাষ্ট্র পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত সফল করার লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এরপর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই ঘোষণার পরপরই নতুন দল ঘিরে দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কিভাবে দল গঠন হবে? কারা এই দলের নেতৃত্বে থাকবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনা শুরু হয়।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সামনে রেখেই নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। নেতাদের নাম চূড়ান্ত হয়নি।

তবে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে আলোচনায় আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক কমিটির আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের হাসনাত আবদুল্লাহ, আরিফ সোহেল, নাগরিক কমিটির সামান্তা শারমিনসহ বেশ কয়েকজন।

শীর্ষ নেতাদের অনেকেই আহ্বায়ক হিসাবে নাহিদ ইসলামের নাম বলছেন। নাম চূড়ান্ত হলে তিনি পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। আখতার হোসেনকে সদস্য সচিব করা হতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এ দল ঘোষণা হবে। এর আগে দলের নাম চূড়ান্ত করা হবে।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন যুগান্তরকে বলেন, তরুণদের মধ্যে যারা সিনিয়র, আন্দোলনের সময় সামনে থেকে নেতৃত্বে দিয়েছেন, যারা রাজনীতি সম্পর্কে ভালো বোঝেন তাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদপদবিতে রাখা হবে।

তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বেই রাজনৈতিক দল হবে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অনেক বছর পর একটি বড় রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ সামনে এসেছে। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নেতৃত্বে আমরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। সেভাবেই আমরা কাজ করছি।

জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা বলছেন, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সব কার্যক্রম প্রায় শেষ। দেশের চলমান রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কাঠামো ও ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে আদর্শের ওপর ভিত্তি করে নতুন রাজনৈতিক দল সামনে আনতে চান তারা। বিশেষ করে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বর্জন ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

তারা বলেন, নতুন দলের নেতৃত্ব নির্বাচন ও দলের অভ্যন্তরে বহুমুখী গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে চান তারা। কেউ চাইলে দীর্ঘ সময় দলের শীর্ষ পদ দখলে রাখতে পারবেন না। এ ছাড়াও দেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সময় উপযোগী রাজনৈতিক দল গড়তে প্রস্তুত তরুণ ছাত্র নেতারা। ফলে শেষ মুহূর্তেও নেওয়া হচ্ছে দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত।

‘এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ ছাত্রদের নেতৃত্বে নতুন দল গঠন করলেও জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিলুপ্ত হবে না। জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষার জন্য স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম হিসাবে সংগঠন দুটি কাজ করবে। ’

নেতারা বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনো দিন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেওয়া হবে। এতে প্রথম পর্যায়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এই আহ্বায়ক কমিটিতে যুক্ত হবেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রনেতা। আহ্বায়ক কমিটির সম্ভাব্য প্রধান হিসাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নাম সর্বাধিক আলোচিত।

নেতারা আরও জানান, নতুন রাজনৈতিক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে আখতার হোসেনকে। তিনি বর্তমান জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই পদে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সদস্য সচিব আরিফ হোসেল, নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিনসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে। আখতার হোসেন না হলে এদের ভেতর থেকে যে কাউকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মূলত নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বে দেওয়া এসব ছাত্র নেতার ওপরই আস্থা রাখতে চান তরুণরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা যুগান্তরকে বলেন, দল গঠনের কাজ চলমান। কবে এই দল ঘোষণা হবে এবং কারা দায়িত্বে থাকবেন- তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। সেজন্য ঘোষণা পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।