ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করতে পারে আইসিসি!

  • আপডেট সময়: ০৩:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯
  • ১২৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জিম্বাবুয়ের সদস্য পদ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ফলে আইসিসি থেকে কোনো অর্থের অনুদান পাবে না দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। শুধু তাই নয়, আইসিসির কোনো ইভেন্টেও অংশ নিতে পারবে না জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল।

গেল মাসে জিম্বাবুয়ে সরকার ওই দেশের পুরো ক্রিকেট বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষণা করে একটি মধ্যবর্তী কমিটি করে দেয়। এরপরই এই সিদ্ধান্ত নেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। জিম্বাবুয়ের মতো এমন দশা হতে পারে পাকিস্তানেরও। অর্থাৎ আইসিসি নিষিদ্ধও করতে পারে পাকিস্তানকে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এমনই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইমরান খানের সৌজন্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেও (পিসিবি) দেশের সরকারের প্রচ্ছন্ন প্রভাব রয়েছে।

পিসিবিতে পাকিস্তান সরকারের সরাসরি দখলদারি রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। নিয়ম অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে পিসিবির প্যাট্রন পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাকিস্তানের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর তথ্য অনুযায়ী, পিসিবির সংবিধানে এমন অনেক অনুচ্ছেদ রয়েছে যেখানে সরকারি হস্তক্ষেপের অধিকার রয়েছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বোর্ডের প্যাট্রন পদের দায়িত্ব দেওয়ায় সরাসরি সরকারি দখলদারির প্রশ্নও চলে আসে। এমন অবস্থায় পিসিবির সংবিধান নিয়ে আইসিসি প্রশ্ন তুলতে পারে। তেমন হলে পিসিবির সাংবিধানিক নিয়ম বিপাকে ফেলতে পারে পাকিস্তানকে। তাদের অবস্থাও হতে পারে জিম্বাবুয়ের মতো।

পিসিবির সংবিধানের অনুচ্ছেদ নম্বর ৪৫-এ লেখা রয়েছে, সরকার যদি চায় তা হলে বোর্ড-এর সংবিধানে পরিবর্তন আনতে পারে। সংবিধানে কোনো নিয়ম জুড়ে দেওয়ার বা ছেঁটে ফেলার অধিকার সরকারের রয়েছে। আরেক জায়গায় লেখা রয়েছে, প্যাট্রন চাইলে বোর্ডের জেনারেল পলিসি নিয়ে নিজের মতামত জানাতে পারেন।

সেক্ষেত্রে বোর্ডকেও প্যাট্রনের মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে। এমনকী পিসিবির অধ্যক্ষকে সরানোর অধিকারও রয়েছে প্যাট্রনের। পাকিস্তানের দাবি, ২০১৪ সালে তাদের সংবিধানকে মান্যতা দিয়েছে আইসিসি। এর আগে সংবিধানে সরকারি হস্তক্ষেপের জন্য শ্রীলঙ্কা ও নেপাল ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করেছিল আইসিসি।

এবার কী তবে পাকিস্তানের পালা! কারণ, পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করে, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পিসিবির কাজে বড্ড বেশি হস্তক্ষেপ করেন। কেননা তার সঙ্গে ক্রিকেটের যোগ রয়েছে। আর তিনি এখন সরকারে। ফলে পিসিবির ভালো-মন্দ তার চোখ এড়ায় না।

এটাই বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন পাকিস্তানি ক্রিকেট সমর্থকরা। তাই আইসিসির জিম্বাবুয়েকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণাটি এলার্মিং হিসেবে নিয়ে আগেভাগেই পিসিবির সংবিধান পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন দেশটির সাধারণ ক্রিকেট সমর্থকরা।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

‘সব ফাঁস’ করে দেওয়ার হুমকি পাটওয়ারীর, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করতে পারে আইসিসি!

আপডেট সময়: ০৩:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জিম্বাবুয়ের সদস্য পদ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ফলে আইসিসি থেকে কোনো অর্থের অনুদান পাবে না দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। শুধু তাই নয়, আইসিসির কোনো ইভেন্টেও অংশ নিতে পারবে না জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল।

গেল মাসে জিম্বাবুয়ে সরকার ওই দেশের পুরো ক্রিকেট বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষণা করে একটি মধ্যবর্তী কমিটি করে দেয়। এরপরই এই সিদ্ধান্ত নেয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। জিম্বাবুয়ের মতো এমন দশা হতে পারে পাকিস্তানেরও। অর্থাৎ আইসিসি নিষিদ্ধও করতে পারে পাকিস্তানকে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এমনই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইমরান খানের সৌজন্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেও (পিসিবি) দেশের সরকারের প্রচ্ছন্ন প্রভাব রয়েছে।

পিসিবিতে পাকিস্তান সরকারের সরাসরি দখলদারি রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। নিয়ম অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে পিসিবির প্যাট্রন পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাকিস্তানের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম দ্য ডন-এর তথ্য অনুযায়ী, পিসিবির সংবিধানে এমন অনেক অনুচ্ছেদ রয়েছে যেখানে সরকারি হস্তক্ষেপের অধিকার রয়েছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বোর্ডের প্যাট্রন পদের দায়িত্ব দেওয়ায় সরাসরি সরকারি দখলদারির প্রশ্নও চলে আসে। এমন অবস্থায় পিসিবির সংবিধান নিয়ে আইসিসি প্রশ্ন তুলতে পারে। তেমন হলে পিসিবির সাংবিধানিক নিয়ম বিপাকে ফেলতে পারে পাকিস্তানকে। তাদের অবস্থাও হতে পারে জিম্বাবুয়ের মতো।

পিসিবির সংবিধানের অনুচ্ছেদ নম্বর ৪৫-এ লেখা রয়েছে, সরকার যদি চায় তা হলে বোর্ড-এর সংবিধানে পরিবর্তন আনতে পারে। সংবিধানে কোনো নিয়ম জুড়ে দেওয়ার বা ছেঁটে ফেলার অধিকার সরকারের রয়েছে। আরেক জায়গায় লেখা রয়েছে, প্যাট্রন চাইলে বোর্ডের জেনারেল পলিসি নিয়ে নিজের মতামত জানাতে পারেন।

সেক্ষেত্রে বোর্ডকেও প্যাট্রনের মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে। এমনকী পিসিবির অধ্যক্ষকে সরানোর অধিকারও রয়েছে প্যাট্রনের। পাকিস্তানের দাবি, ২০১৪ সালে তাদের সংবিধানকে মান্যতা দিয়েছে আইসিসি। এর আগে সংবিধানে সরকারি হস্তক্ষেপের জন্য শ্রীলঙ্কা ও নেপাল ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করেছিল আইসিসি।

এবার কী তবে পাকিস্তানের পালা! কারণ, পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করে, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পিসিবির কাজে বড্ড বেশি হস্তক্ষেপ করেন। কেননা তার সঙ্গে ক্রিকেটের যোগ রয়েছে। আর তিনি এখন সরকারে। ফলে পিসিবির ভালো-মন্দ তার চোখ এড়ায় না।

এটাই বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন পাকিস্তানি ক্রিকেট সমর্থকরা। তাই আইসিসির জিম্বাবুয়েকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণাটি এলার্মিং হিসেবে নিয়ে আগেভাগেই পিসিবির সংবিধান পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন দেশটির সাধারণ ক্রিকেট সমর্থকরা।