ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক

  • আপডেট সময়: ০৫:৪২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৪ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় রিনা খাতুন নামের এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রিনা খাতুন স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে বিচারের দাবি করেছেন।

উপজেলার কাজিরবের ইউপির নতুন কোলা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী রিনা খাতুন নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। ও পার্শ্ববর্তী পুরাতন কোলা গ্রামের মৃত পীর বক্সের মেয়ে।

ভুক্তভোগী রিনা খাতুন ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রাকিবুলের সঙ্গে রিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোই চলছিল। তবে বিপত্তি ঘটে রিনা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর।

তার গর্ভধারণের ছয় মাস পূর্ণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। রিপোর্টে গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা রিনার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক রিনাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ তার কোনো খোঁজ নেননি।

পরে বাবার বাড়িতেই অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে ফুটফুটে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন রিনা। বর্তমানে শিশুদের বয়স দেড় মাস পার হয়ে গেলেও স্বামী রাকিবুল কিংবা তার পরিবারের কেউ সন্তানদের দেখতে আসেননি, এমনকি তাদের ভরণপোষণের কোনো দায়িত্বও নেননি।

রিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া নাকি আমার অপরাধ। এই অপরাধে আমাকে নির্যাতন করে তালাক দেওয়া হয়েছে। এখন আমার স্বামী বলছে, সন্তানদের বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে নাকি আমার কাবিননামার টাকা শোধ করবে।

স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক হওয়ায় স্থানীয় মাতব্বর ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এলাকায় দুই দফায় সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করেন। তবে স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবার কন্যাসন্তানদের ও রিনাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কোনো সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ রাকিবুল রিনাকে ডিভোর্স লেটার (তালাকনামা) পাঠান বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুহু বলেন, স্থানীয়ভাবে এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দুই দফা সালিশ বৈঠক বসেছিল। রাকিবুল ও তার পরিবার কন্যা সন্তানদের ও রিনাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কোনো সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে নতুন কোলা গ্রামে রাকিবুল ইসলামের বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তার পরিবারের কাউকেই পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

শিক্ষা খাত আধুনিকায়নে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঝিনাইদহে যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক

আপডেট সময়: ০৫:৪২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় রিনা খাতুন নামের এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রিনা খাতুন স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে বিচারের দাবি করেছেন।

উপজেলার কাজিরবের ইউপির নতুন কোলা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী রিনা খাতুন নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। ও পার্শ্ববর্তী পুরাতন কোলা গ্রামের মৃত পীর বক্সের মেয়ে।

ভুক্তভোগী রিনা খাতুন ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রাকিবুলের সঙ্গে রিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোই চলছিল। তবে বিপত্তি ঘটে রিনা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর।

তার গর্ভধারণের ছয় মাস পূর্ণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। রিপোর্টে গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা রিনার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক রিনাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ তার কোনো খোঁজ নেননি।

পরে বাবার বাড়িতেই অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে ফুটফুটে দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন রিনা। বর্তমানে শিশুদের বয়স দেড় মাস পার হয়ে গেলেও স্বামী রাকিবুল কিংবা তার পরিবারের কেউ সন্তানদের দেখতে আসেননি, এমনকি তাদের ভরণপোষণের কোনো দায়িত্বও নেননি।

রিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া নাকি আমার অপরাধ। এই অপরাধে আমাকে নির্যাতন করে তালাক দেওয়া হয়েছে। এখন আমার স্বামী বলছে, সন্তানদের বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে নাকি আমার কাবিননামার টাকা শোধ করবে।

স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক হওয়ায় স্থানীয় মাতব্বর ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এলাকায় দুই দফায় সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করেন। তবে স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবার কন্যাসন্তানদের ও রিনাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কোনো সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ রাকিবুল রিনাকে ডিভোর্স লেটার (তালাকনামা) পাঠান বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুহু বলেন, স্থানীয়ভাবে এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দুই দফা সালিশ বৈঠক বসেছিল। রাকিবুল ও তার পরিবার কন্যা সন্তানদের ও রিনাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কোনো সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে নতুন কোলা গ্রামে রাকিবুল ইসলামের বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তার পরিবারের কাউকেই পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।