ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের

  • আপডেট সময়: ১০:৫৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ইসলামাবাদ এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরান ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে এ তথ্য।

শিল্পোন্নত ৭ দেশের জোট জি৭ সামিটের সম্মেলন উপলক্ষে বর্তমানে ফ্রান্সে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবার রাজধানী প্যারিসের ভার্সাইলিস প্রাসাদে নৈশভোজের আগে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। এ সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার পাশে ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাজধানী তেহরানে নিজ দপ্তরে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানও। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা সেই চুক্তি স্বাক্ষরের ছবিও প্রকাশ করেছে।

১৪টি পয়েন্ট সম্বলিত ইসলামাবাদ এমওইউ খুব সংক্ষিপ্ত একটি সমঝোতা চুক্তি; কিন্তু এর তাৎপর্য ব্যাপক। কারণ মাত্র ৮০০ শব্দের এই চুক্তিটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কয়েক দশকব্যাপী উত্তেজনা প্রশমণের প্রাথমিক বার্তা এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে এগোনোর পথ।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানাপোড়েনের জেরে টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতির নামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থার পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে নতুন এই চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত ৬ মে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছিলেন, “আমরা একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া ইরানের কাছে পাঠিয়েছি, আশা করছি শিগগিরই একটা মীমাংসায় আমরা পৌঁছাতে পারব।”

ইসলমাবাদ এমওইউ স্বাক্ষরের ফলে প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, সেই চুক্তির বক্তব্য ও শর্ত নির্ধারণ, ইরানের পরমাণু প্রকল্প, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি ইস্যুতে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় পাচ্ছে ওয়াশিংটন এবং তেহরান। এই ৬০ দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অবাধে চলাচল করতে দেবে ইরান; তার পরিবর্তে ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে মার্কিন বাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আছে পাকিস্তান। গতকাল সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, অবিলম্বে চুক্তির শর্তগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে।

সূত্র : রয়টার্স, সিএনএন

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

জুলাই থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের

আপডেট সময়: ১০:৫৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ইসলামাবাদ এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরান ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে এ তথ্য।

শিল্পোন্নত ৭ দেশের জোট জি৭ সামিটের সম্মেলন উপলক্ষে বর্তমানে ফ্রান্সে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবার রাজধানী প্যারিসের ভার্সাইলিস প্রাসাদে নৈশভোজের আগে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। এ সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার পাশে ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাজধানী তেহরানে নিজ দপ্তরে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানও। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনা সেই চুক্তি স্বাক্ষরের ছবিও প্রকাশ করেছে।

১৪টি পয়েন্ট সম্বলিত ইসলামাবাদ এমওইউ খুব সংক্ষিপ্ত একটি সমঝোতা চুক্তি; কিন্তু এর তাৎপর্য ব্যাপক। কারণ মাত্র ৮০০ শব্দের এই চুক্তিটিই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কয়েক দশকব্যাপী উত্তেজনা প্রশমণের প্রাথমিক বার্তা এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির দিকে এগোনোর পথ।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানাপোড়েনের জেরে টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতির নামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থার পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে নতুন এই চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত ৬ মে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছিলেন, “আমরা একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া ইরানের কাছে পাঠিয়েছি, আশা করছি শিগগিরই একটা মীমাংসায় আমরা পৌঁছাতে পারব।”

ইসলমাবাদ এমওইউ স্বাক্ষরের ফলে প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা, সেই চুক্তির বক্তব্য ও শর্ত নির্ধারণ, ইরানের পরমাণু প্রকল্প, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রভৃতি ইস্যুতে আলোচনার জন্য ৬০ দিন সময় পাচ্ছে ওয়াশিংটন এবং তেহরান। এই ৬০ দিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অবাধে চলাচল করতে দেবে ইরান; তার পরিবর্তে ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে মার্কিন বাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় আছে পাকিস্তান। গতকাল সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, অবিলম্বে চুক্তির শর্তগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে।

সূত্র : রয়টার্স, সিএনএন