ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময়: ০৯:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়সমূহ বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এদিন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও তার নির্ধারিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এক প্রশ্নে জানতে চান- তিস্তা নদীবেষ্টিত এবং ভৌগোলিক কারণে ঐতিহাসিকভাবে উন্নয়নবঞ্চিত রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) সংসদীয় আসনের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং তিস্তা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু বা পরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ও বড় আকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো বিশেষ ‘সমন্বিত মহাপরিকল্পনা’ গ্রহণ করার পরিকল্পনা আছে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ দেওয়াসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহ কমে যায়। যার ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে উজানে অতি বৃষ্টির কারণে হঠাৎ বন্যা ও নদীভাঙন সংগঠিত হয়।

তিনি বলেন, তিস্তা এলাকার ৫টি জেলায় (রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট) নদীভাঙন রোধে বিগত ও চলতি অর্থবছরে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২.৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে, যা এ মাসেই সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। আরও উল্লেখ্য, এই কাজের মধ্যে রংপুর-৪ সংসদীয় এলাকার তিস্তা নদীর অংশে ভাঙন রোধে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪.৬ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান আছে, যার বাস্তবায়নও চলতি মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীভাঙন অনেকাংশেই প্রশমিত হবে।

তারেক রহমান বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ (নদী শাসন), ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর রাস্তা নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কাজ প্রস্তাব করা হয়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

জুলাই থেকে বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময়: ০৯:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়সমূহ বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এদিন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও তার নির্ধারিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এক প্রশ্নে জানতে চান- তিস্তা নদীবেষ্টিত এবং ভৌগোলিক কারণে ঐতিহাসিকভাবে উন্নয়নবঞ্চিত রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) সংসদীয় আসনের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং তিস্তা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু বা পরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ও বড় আকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো বিশেষ ‘সমন্বিত মহাপরিকল্পনা’ গ্রহণ করার পরিকল্পনা আছে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ দেওয়াসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহ কমে যায়। যার ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে উজানে অতি বৃষ্টির কারণে হঠাৎ বন্যা ও নদীভাঙন সংগঠিত হয়।

তিনি বলেন, তিস্তা এলাকার ৫টি জেলায় (রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট) নদীভাঙন রোধে বিগত ও চলতি অর্থবছরে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২.৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে, যা এ মাসেই সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। আরও উল্লেখ্য, এই কাজের মধ্যে রংপুর-৪ সংসদীয় এলাকার তিস্তা নদীর অংশে ভাঙন রোধে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪.৬ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান আছে, যার বাস্তবায়নও চলতি মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীভাঙন অনেকাংশেই প্রশমিত হবে।

তারেক রহমান বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ (নদী শাসন), ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর রাস্তা নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কাজ প্রস্তাব করা হয়েছে।